বিপ্লব গোস্বামী।।
সাইকেলে করে সাত কিলো মিটার দূরে বাজারে ঘরে ঘরে দুধ পৌছে দিয়ে আমি স্কুলে যেতাম।স্কুল থেকে এসে মাঠে গরু চরাতাম। বাবা ভাইকে কাজে সাহায্য করতে হত আমাকে। স্কুলের সহপাঠীরা আমার সঙ্গে তেমন একটা মেলা মেশা করত না।ওদেরকে আমি সময় দিতে পারতাম না।তা ছাড়া আমার মধ্যে বিলাসিতার চিহ্ন মাত্র ছিল না।তাই ওরা আমাকে এড়িয়ে চলত। সেজন্য আমার কোন আক্ষেপও ছিল না।
এভাবেই স্কুল জীবন শেষ করে কলেজে গেলাম।তখন কলেজের ছাত্র বয়সও বেড়েছে। তাই দয়িত্বটুকুও বেড়েছে।ফলে বাড়ির কাজে আগে ছেয়ে বেশি সাহায্য করতে হত।কলেজে সপ্তাহে দুই বা বড়জোড় তিন দিন যেতাম।এ জন্য অনেক কথা শুনতে হত অধ্যাপকগণের।শুধু তাই নয়,নন কলেজিটির জন্য প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বসে দেওয়া হয়নি আমাকে।পরে অধ্যক্ষ মহাশয়ের কাছে সব খোলে বলি।তিনি ছিলেন খুব দয়ালু মানুষ।আমার কথায় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। তিনিই আমার পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করে দিলেন।উনার দয়ায় কলেজ থেকে (poor fund) পোয়র পাণ্ডও পেয়ে ছিলাম।
কলেজে পড়ার সময় অসম সরকারের আয়োজিত শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হয়ে যাই।তারপর রাজ্য সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিযুক্তি দিলে আমিও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়ে শিক্ষাদানের সহান ব্রতে ব্রতী হই।
মায়ের মুখে গল্প শুনেছি আমি যখন শিশু ছিলাম খেলনা কিনার টাকা ছিলো না।মা আমাকে পুরনো ছেড়া বই দিতেন খেলার জন্য।আর আমি বই জন্য বয়নাও ধরতাম।
সাহিত্যের প্রতি অনুরাগটা সেই ছাত্র জীবন থেকেই।ছোটবেলা পাঠ্য বইয়ের কবিতা পড়তাম।কবিতা খুব ভালো লাগত।সেই ভালো লাগতা থেকেই কি ভাবে যে লেখাটা শুরু হয়ে গেলো তা বুঝতেও পারিনি।মনে আছে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় এক বন্ধু বলেছিল তার দাদা নাকি কবিতা লিখতে পারেন।কথাটা আমার মাথার মধ্যে ঢুকে গেয়েছিল।আমি বাড়িতে এসো চেষ্টা করতে লাগলাম।সেই থেকেই শুরু।
আমার জন্ম এক অজো পাড়া-গাঁঁয়ের অতি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে।দারিদ্রতার সঙ্গে সংগ্ৰাম করে বেড়ে ওঠা।আমি নিজেকে ধন্য মনে করি গরীবের ঘরে জন্ম হওয়ার জন্য।গরীবের ঘরে যদি জন্ম না হত তাহলে হয় তো বুঝতেই পারতাম না দারিদ্রতার কি জ্বালা।দারিদ্রতার জন্য মানুকে কতটা অবহেলিত হতে হয়।হতে হয় কতটা অত্যাচারিত, উপহাসের পাত্র।
Leave a Reply